আয়কর আইন ২০২৩, অর্থ আইন ২০২৩-২০২৬, সংবিধিবদ্ধ পরিপত্র ও এসআরও-এর ধারাভিত্তিক বিশদ বিশ্লেষণ। TaxUkil-এর প্রতিটি হিসাবের সূত্র সরকারের অফিসিয়াল গেজেট ও বিডি লজ (BDLaws) এর সাথে সমন্বিত।
আইনগত রেফারেন্স তারিখ: ৬ নভেম্বর ২০২৬
চাকরিজীবীর যাবতীয় বেতন, মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ভাতা, বোনাস ও সুবিধাসমূহ এই ধারায় মোট বেতনের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ অংশ করছাড়ের আওতাভুক্ত থাকবে।
নিয়োগকর্তা গাড়ি দিলে বা বাড়ি দিলে অথবা ব্যক্তিগত ইউটিলিটি বিল প্রদান করিলে তাহার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করিয়া বেতনের সাথে যোগ করতে হয়।
ব্যবসায়িক করযোগ্য মুনাফা নির্ধারণে কেবল ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট বৈধ খরচ বাদ দেয়া যায়। কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক খরচ ব্যবসা খাতের খরচ হিসেবে দাবি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
৫০ হাজার টাকার বেশি পণ্য ক্রয় অথবা ২০ হাজার টাকার বেশি মাসিক বেতন ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যতীত নগদে দিলে তা সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে কোম্পানির করযোগ্য আয়ে যোগ হয়।
ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রমাণ ও পিআরসি (PRC) ছাড়া হুন্ডি বা অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে টাকা আনলে তা সম্পূর্ণ অপ্রদর্শিত কালো টাকা হিসেবে গণ্য হবে এবং জরিমানা আরোপিত হবে।
ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র, জীবন বীমা বা শেয়ারে বিনিয়োগ করলে ধারা ৭৮ অনুযায়ী কর ছাড় পাওয়া যায়। কর রেয়াত হিসাবের ৩টি পরিমাপকের মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন, কেবল সেই পরিমাণ সরাসরি ট্যাক্স থেকে বাদ যায়।
কর্মীর সম্ভাব্য বার্ষিক ট্যাক্স হিসাব করে প্রতি মাসে গড় হারে কোম্পানি ট্যাক্স কেটে রাখে। কোনো মাসে বোনাস বৃদ্ধি বা বেতন বাড়লে কোম্পানি পরবর্তী মাসগুলোর ট্যাক্স বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিখুঁতভাবে সমন্বয় করতে আইনত বাধ্য।
কোম্পানিকে প্রতি বছর সব কর্মীর বেতন ও টিডিএস কর্তনের বার্ষিক ১০৮ ফরম ট্যাক্স অফিসে জমা দিতে হয়।
ইউটিউব, গুগল এডসেন্স বা ফেসবুক মনিটাইজেশনের টাকা ব্যাংক একাউন্টে আসার সময় ব্যাংক যে ১০% ট্যাক্স কাটে, তা ধারা ১২৪ এর অধীন কর্তন। করদাতা এই কর্তনের সার্টিফিকেট নিয়ে রিটার্নে ধারা ১৫৪ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ক্রেডিট বা রিফান্ড দাবি করতে পারেন।
বেতন থেকে বা ব্যাংকে কর্তিত কোনো ট্যাক্স চূড়ান্ত ট্যাক্স নয়। আপনার মোট বাৎসরিক কর হিসাব করে তার বিপরীতে এই কর্তিত অর্থ বাদ যায়। প্রদেয় কর শূন্য হলে পুরো অর্থ ফেরতযোগ্য (Refundable)।
টিআইএন সার্টিফিকেট থাকলেই প্রতি বছর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। আয় না থাকলেও শূন্য রিটার্ন জমা দিতে হবে, নয়তো লাইসেন্স নবায়ন, ব্যাংক লোন বা নাগরিক সেবায় জটিলতা ও জরিমানা হবে।
স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য ৩০ নভেম্বর হলো শেষ দিন (কর দিবস)। এনবিআর সরকারি আদেশ না দিলে এই তারিখের পর রিটার্ন দিলে বিলম্ব সুদ প্রযোজ্য হবে।
দেরিতে রিটার্ন দিলে প্রদেয় করের উপর প্রতি মাসে ২% হারে সুদ দিতে হয়। তবে যদি কোনো ট্যাক্স প্রদেয় না থাকে (ট্যাক্স শূন্য), তবে কোনো সুদ প্রযোজ্য হবে না।
গুরুতর অসুস্থতা বা বিদেশে থাকার প্রমাণসহ উপকরকমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করলে তিনি জরিমানা বা বিলম্ব সুদ সম্পূর্ণ বা আংশিক মওকুফ করতে পারেন। এটি স্বয়ংক্রিয় কোনো সুবিধা নয়, কর্মকর্তার সুবিবেচনামূলক এখতিয়ার।
রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকারপত্র (PSR) না থাকলে যে কোনো ব্যবসায়িক বিল বা সরবরাহের ওপর স্বাভাবিক উৎসে করের চেয়ে ৫০% বেশি কর কেটে রাখা হবে।
দেরিতে রিটার্ন দিলে উপকরকমিশনার ১,০০০ টাকা এবং প্রতিদিন ৫০ টাকা হারে জরিমানা করতে পারেন। তবে অতীতে আয় না থাকলে এই জরিমানা নূন্যতম সীমার মধ্যে রাখা হয়।
ট্যাক্স অফিসের অন্যায্য বা বিতর্কিত আদেশের বিরুদ্ধে ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল দায়েরের অধিকার রয়েছে।
চাকরিজীবীর মোট প্রাপ্ত বেতনের এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) বা সর্বোচ্চ ৪,৫০,০০০ টাকা করমুক্ত। পূর্ববর্তী ১৯৮৪ সালের আইনের বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও কনভেয়েন্সের জটিল আলাদা আলাদা হিসাবের পরিবর্তে এই সহজ সাধারণ সমন্বিত করছাড় চালু করা হয়েছে।
চাকরি শেষে অনুমোদিত গ্র্যাচুইটি ফান্ড থেকে পাওয়া ২.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকে।
ফ্রিল্যান্সার ও আইটি প্রতিষ্ঠান বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনলে এবং ব্যাংক পিআরসি (PRC) থাকলে তা সম্পূর্ণ করমুক্ত। কিন্তু দেশের ভেতরের সেবা বা হুন্ডিতে টাকা আনলে তা করযোগ্য ও দণ্ডনীয়।
ডিপিএসে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার, সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ এবং জীবন বীমায় পলিসি মূল্যের ১০% এর বেশি বিনিয়োগ করলেও ট্যাক্স রেয়াতের জন্য সেই অতিরিক্ত অংশ গ্রাহ্য হবে না।
ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যতীত হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আনা দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে ট্যাক্স সুবিধা তো মিলবেই না, উল্টো অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড হতে পারে।